Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ জুন ২০২২

মো: আখতারুজ্জামান

মোঃ আখতারুজ্জামান

মোঃ আখতারুজ্জামান, ১৯৬৪ সালের ২রা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন, গবেষণা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ তুলা বিশেষজ্ঞ। তিনি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন।

তিনি কৃষি মন্ত্রনালয়ের অধীনে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসাবে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং সেখানে ১৫ ই আগস্ট ১৯৮৯ থেকে ২৯ জুলাই ১৯৯৮ পর্যন্ত কাজ করেন। এই সময়কালে তিনি এরিয়াল ফটো, সার সুপারিশ ব্যবহার করে ভূমি ও মাটির মানচিত্র তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। মৃত্তিকা বিশ্লেষনমূলক তথ্য অনুসারে সার সুপারিশ প্রদান, কৃষি জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে ভূমি ব্যবহারের পরিকল্পনা, "উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা" প্রণয়ন এবং সেইসাথে অফিস প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ৩০ জুলাই ১৯৯৮ সালে মাটির উর্বরতা এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হিসাবে তুলা উন্নয়ন বোর্ডে যোগদান করেন এবং চুয়াডাঙ্গা জোনাল অফিসের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেন। তুলা ফসলকে একটি অর্থকরী ফসল হিসাবে তুলা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং তুলা চাষাবাদ করে সর্বাধিক লাভবান হওয়া, আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর করে কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণ, কৃষক ও সম্প্রসারণ কর্মীদের তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত জমি ও মাটি নির্বাচন করতে সাহায্য করা সহ তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ০৭ জুলাই ২০০৪-এ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের যশোর অঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক পদে উন্নীত হন এবং তুলা সম্প্রসারণ ও গবেষণা কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এই অঞ্চলে প্রশিক্ষণ, জিনিং এবং বিপণন বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন।

তিনি ২৬ এপ্রিল ২০১১-এ তুলা উন্নয়ন বোর্ড-এর “তুলা উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ” শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হন। প্রকল্প পরিচালক হিসাবে, তিনি প্রকল্পের কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে যেমন প্রকল্প কর্মীদের নিয়োগ, অংশগ্রহণমূলক গবেষণা পরিচালনা, প্রশিক্ষণ, উচ্চতর শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে তার দক্ষতা রেখেছেন। তিনি ৩১ জানুয়ারী ২০১৩-এ অতিরিক্ত পরিচালক হিসাবে সিডিবি সদর দপ্তরে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশে তুলা গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেন। তাছাড়া বাংলাদেশের তুলা খাতে টেকসই উন্নয়ন সাধনের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা সমাধানে নিজের গবেষণার কাজ বাস্তবায়ন করেন। তিনি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা উন্নয়ন প্রকল্পে  প্রকল্প পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন, সেই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি পাহাড়ি উপত্যকা ও পাহাড়ি ঢালে জমি আপল্যান্ড তুলা (Gossypium hirsutum) চাষ করেন।

বাংলাদেশে হাইব্রিড তুলা প্রবর্তনে তার উল্লেখযোগ্য অবদান এবং বাংলাদেশের লবণাক্ত এলাকায় রবি তুলা প্রবর্তন, পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন, প্রাথমিক ব্যবস্থাপনার জন্য তুলা ফসলের কৃষি ব্যবস্থাপনার উপর প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তুলার মাঝে আন্ত:ফসল হিসাবে মুগ ডাল, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ এবং তুলার সাথে পাটের বীজ ফসল চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার অনেক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। জ্ঞান বিনিময়ের জন্য তিনি অনেক দেশ যেমন চীন, ভারত, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া এবং মিশর সফর করেছেন।

তিনি বিভাগীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার, উদ্ভাবক পুরস্কার পেয়েছেন এবং তিনি একজন রিভাইভাল অফ মসলিন প্রকল্পের গর্বিত গবেষণা দলের সদস্য, প্রকল্পটি জনপ্রশাসন পুরস্কার ২০২১ লাভ করেছে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয় তাকে ১লা নভেম্বর ২০২১ থেকে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদান করেছে।



Share with :

Facebook Facebook